
তাজহাট জমিদার বাড়ী (বর্তমানে প্রত্বতত্ব জাদুঘর) রংপুর শহর থেকে ৩ কি:মি: দূরে তাজহাটের ছায়া ঘেরা মনোরম পরিবেশে অবস্থিত । জমিদার বাড়ীর মূল ভবনটি ঐতিহাসিক এক প্রাচীন নিদর্শন। রাজা গোবিন্দলাল এর পুত্র মহারাজা কুমার গোপাল লাল রায় প্রায় দশ বছর(১৯০৮-১৯১৭) সময় ধরে বিভিন্ন নকশা ও কারুকাজ খচিত ভবনটি নির্মাণ করে ।
৭৬.২০ মিটার দীর্ঘ ভবনটি তৈরীতে ব্যবহার করা হয়েছে বিদেশী সাদা মার্বেল পাথর। ১৯৪৭ সালে জমিদার বাড়ীটি পরিত্যক্ত ঘোষনা করে ৫৫ একর জমি সহ এগ্রিকালচার ইনিষ্টিটিউট কে দেওয়া হয়। ১৯৮৪ সালের ১৮ মার্চ তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ ভবনটিতে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশন হিসেবে উদ্বোদন করেন। পরবর্তীতে ১৯৯১ সালে হাইকোর্ট ডিভিশন উঠেগেলে ১৯৯৫ সালে রাজবাড়িটি ১৫ একর জমি সহ প্রত্বতত্ব অধিদপ্তর এর কাছে হস্তান্তর করা হয়। প্রত্বতত্ব অধিদপ্তর ২০০৫ সালে রাজবাড়িটি কে জাদুঘরে রূপান্তর করে। জাদুঘর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তৎকালীন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বেগম সেলিমা রহমান। বর্তমান জাদুঘরে ছোট কোরআন শরিফ, সম্রাট আওরাঙ্গজেবের স্বহস্থে লেখা খুৎবা,কবি শেখ সাদীর স্বহস্থে লেখা কবিতা, শিবলিঙ্গ, কষ্টিপাথর মূর্তি, শিলামূর্তি, পোড়ামাটির ফলক, প্রচীন মুদ্রা, সংস্কৃত ভাষায় লিখিত কিছু চিঠি, শিলালিপি সহ প্রায় ১০০ প্রকার বিরল প্রতœতত্ব রয়েছে। জদুঘর দেখতে দেশ-বিদেশ এর হাজার হাজার দর্শনার্থী ভীড় করে। দর্শনার্থীর তালিকায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, শ্রীলংকা, নেপাল, মালদ্বীপ সহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও দর্শনার্থী।
২০০৫ সালে যেখানে দর্শনার্থী সংখ্যা ছিল ৫০ হাজার ৪শত ২০১০ সালে তা লক্ষাধিক ছাড়িয়ে গেছে। জাদুঘরে প্রবেশ ফি দেশী দর্শনার্থীদের জন্য ১০ টাকা এবং বিদেশী দর্শনার্থীদের জন্য১০০ টাকা। এখান থেকে বছরে বিপুল পরিমান অর্থ আয় করছে সরকার। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রংপুর অঞ্চলের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জানাতে জাদুঘরটি বড় ধরনের ভূমিকা রাখছে।
