May 20, 2022

আবরারের ‘খুনি’ অনলাইন ক্লাসে যোগদান ; ক্ষুব্ধ বুয়েট শিক্ষার্থীরা

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় আজীবন বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেতা আশিকুল ইসলাম বিটু কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অনলাইন ক্লাসে যোগদান করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিভাগের সব শিক্ষার্থী। অবিলম্বে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে তারা প্রশাসনকে আহ্বান জানিয়েছেন।

সোমবার দুপুরে বুয়েট শিক্ষার্থীদের ফেসবুক পেজে (বুয়েটিয়ান) এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ভারতের সঙ্গে চুক্তির বিরোধিতা করে ২০১৯ সালের ৫ অক্টোবর বিকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার।

এর জেরে পর দিন রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে নিয়ে তাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মী। পরে তার লাশ সিঁড়িতে ফেলে রাখা হয়।

নৃশংস এ হত্যা মামলায় ২৫ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। এর পর চার্জশিটভুক্ত ২৫ আসামিসহ মোট ২৬ ছাত্রকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে বুয়েট কর্তৃপক্ষ। তাদের মধ্যে একজন হলেন আশিকুল ইসলাম বিটু, যিনি বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সহসম্পাদক ছিলেন।

বুয়েট শিক্ষার্থীদের ওই পেজটিতে বলা হয়, ‘আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় বুয়েট থেকে আজীবন বহিষ্কৃত আশিকুল ইসলাম বিটু (কেমিক্যাল’ ১৬) গত শনিবার অনলাইনে একটি কোর্সের ক্লাসে জয়েন করে। বহিষ্কারের পর স্টে অর্ডার নিয়ে এটিই তার প্রথম ক্লাস। এর পর শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ ও বয়কটের মুখে সে আর ক্লাসে জয়েন করেনি।

প্রাথমিক প্রতিবাদ হিসেবে বুয়েটের রানিং ব্যাচের সব শিক্ষার্থী তাদের অফিসিয়াল জুম এবং টিমস অ্যাকাউন্টে ‘খুনির সঙ্গে ক্লাসে অংশগ্রহণ নয়’ লেখাসংবলিত প্রোফাইল পিকচার দিয়ে আজকের ক্লাস করেছে; যেন সব শিক্ষকের কাছে এ বিষয়টি পৌঁছে যায়। দ্রুতই এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি দেখা না দিলে সামনে ক্লাস বর্জনসহ আরও কঠিন পদক্ষেপের দিকে আগাতে পারে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।’

Leave a Reply

Your email address will not be published.