May 21, 2022

ইসলাম বিদ্বেষ রুখতে শক্তিশালী যোগাযোগ মাধ্যম দরকার: এরদোয়ান

তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান বলেছেন, সকল মানুষের নিরাপত্তা শান্তির জন্য ইসলাম বিদ্বেষ প্রতিরোধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিশ্বের দেশগুলোকে ইসলাম বিদ্বেষ রুখতে আন্তর্জাতিকভাবে একটি শক্তিশালী যোগাযোগ মাধ্যম প্রতিষ্ঠা করা উচিৎ।

মঙ্গলবার আঙ্কারায় প্রথমবারের মতো ‘আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও ইসলাম বিদ্বেষ’ শীর্ষক একটি সেমিনারে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমাদের উচিৎ রাজনীতিবিদ, বুদ্ধিজীবী, গণমাধ্যমকর্মী,আমাদের ধর্মীয় নেতাসহ অন্যান্য পাদ্রীদের বিশ্বব্যাপি ইসলাম বিদ্বেষ রুখতে একতাবদ্ধ করা। সকলের অনুভূতি জাগানোর কৌশল নির্ধারণ করে ইসলাম বিদ্বেষ রুখতে হবে, যা মানুষের নিরাপত্তা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি আরো বলেন, যখন ইসলামী বিশ্ব এই বিষয়ে নিজেদের মধ্যে একতা প্রতিষ্ঠা করবে, তখন অল্প সময়ের মধ্যে ইসলাম বিদ্বেষের বিরুদ্ধে লড়াই করার সম্ভাবনা এগিয়ে যাবে।

এরদোয়ান জোড় দিয়ে বলেন, ইসলাম বিদ্বেষ একধরণের ক্যান্সারের মতো যা দ্রুত বিশ্বের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে, বিশেষ করে পশ্চিমা বিশ্বে।

মার্কিন প্রশাসন ৯/১১’র সন্ত্রাসী হামলার পর ‘ইসলাম বিদ্বেষ’ ভাইরাস ছড়ানোর মাধ্যমে ‘মুসলিমদের নির্মূলের’ কৌশল গ্রহণ করে, যা ইতিমধ্যে অনেক সমাজে সংস্কৃতিক রুপ লাভ করেছে। তিনি যোগ করেন।

তিনি ‍উল্লেখ করেন, পশ্চিমাদের হুমকির ধরণ আলোচনা ছাড়াই ওইসব লোক যারা বর্ণবাদ ও বৈষম্যমূলক আচরনের শিকার তারা সহজে এটি গ্রহণ করেন।

তিনি আরো উল্লেখ করেন যে, পশ্চিমা দেশগুলো বিশ্বশক্তির ভারসাম্যপূর্ণ পরিবর্তনের অনিশ্চয়তা এড়াতে ফ্যাসিবাদী বক্তব্য দিয়ে তাদের জনমত আর্কষণ করছে। তিনি বলেন বর্ণবাদী আন্দোলন পশ্চিমা নীতির কেন্দ্রে স্থান করে নিয়েছে।

বিশ্বে যারা দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় স্বাধীনতার পক্ষে নিজেদের সর্বোচ্চ অবস্থান তুলে ধরেছে তারা আজ মুসলিমদের বিভিন্ন বিষয় নিষিদ্ধে প্রতিযোগিতা করছে। তিনি যোগ করেন।

ইসলাম বিদ্বেষী আক্রমণ বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পশ্চিমা কর্ণধাররা সকল নাগরিকের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে দায়বদ্ধ, বিশেষ করে রাজনৈতিক দলসমূহ ও ‍পুলিশ বাহিনী ইসলামের বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতায় নেমেছেন।

রাজনীতি ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে ইসলাম বিদ্বেষের অভিষেক পশ্চিমা দেশগুলোতে গণতান্ত্রিকভাবে বসবাসকারী মুসলিম ও ইসলামের বিরুদ্ধে একটি অদৃশ্য কুসংস্কারের উন্নয়ন ঘটাবে। তিনি আরো যোগ করে বলেন, যেখানে স্বাধীনতা অদৃশ্য সেখানে সমৃদ্ধি দীর্ঘদিন স্থায়ী হতে পারে না।

দুই দিনের এই সিম্পোজিয়ামটি অনুষ্ঠিত হয় আন্তর্জাতিক কনভেনশন ও প্রদর্শনী কেন্দ্র এটিও কংগ্রেসিয়ামে।

সিম্পোজিয়ামটির আয়োজন করে দেশটির রেডিও ও টেলিভিশন সুপ্রীম কাউন্সিল(আরটিইউকে), প্রেসিডেন্সি অব রিলিজিয়াস অ্যাফেয়ার্স, এরসিয়েস ইউনিভার্সিটি, টার্কিস রেডিও এন্ড টেলিভিশন করপোরেশন(টিআরটি) ও আঙ্কারা ভিত্তিক পলিসি থিংক-ট্যাংক এসইটিএ ফাউন্ডেশন।

আরও সংবাদ

ছোট ভাইয়ের সঙ্গে উইসেল শেখ খালিল-গার্ডিয়ান

ফিলিস্তিনি কিশোরী উইসেল শেখ খালিল। খুবই সাধারণ একটি মেয়ে। গাজার রাস্তায় এক্কাদোক্কা খেলে বেড়াত। অঙ্ক ও নাচে দখল ছিল। ভালো ছবিও আঁকত।

সেই শান্ত কিশোরীই হঠাৎ করে ক্ষোভে ফেটে পড়ল। পরিবারের সদস্যরা অনেক বোঝাল। বলল সীমান্তে গেলে ইসরাইলি সেনারা গুলি করে মেরে ফেলবে।

কিন্তু কারও বারণ শোনেনি ১৪ বছরের এ কিশোরী। সোমবার সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে ১১ বছরের ছোট ভাইকে নিয়ে বিক্ষোভ করতে চলে যায় সে।

সেখানে ইসরাইলি সেনাদের গুলি ও কাঁদানে গ্যাস উপেক্ষা করেই একেবারে সীমান্তে পৌঁছে যায় সে।

প্রথমে সে বিক্ষোভকারীদের পানির বোতল এগিয়ে দিচ্ছিল। কিন্তু ইসরাইলি সেনারা দমন-পীড়ন বাড়ালে ক্ষিপ্ত হয়ে যায় এ ফিলিস্তিনি কিশোরী।

একেবারে সীমান্ত লাগোয়া জায়গায় হাজির হয় সে। তার মাতৃভূমি ফিলিস্তিনকে দখল করে গড়ে তোলা ইসরাইলের কাঁটাতারের বেড়া কেটে ফেলতে চেষ্টা করে।

একপর্যায়ে ইসরাইলি সেনাদের স্নাইপার রাইফেলের নিশানায় পরিণত হয় সে। গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে কিশোরী উইসেল।

গত ৩০ মার্চ থেকে ইসরাইলের দখল করে নেয়া ঘরবাড়িতে ফিরতে ফিলিস্তিনিদের পদযাত্রা কর্মসূচি শুরু হয়েছে।

এ কর্মসূচির প্রথম দিনেই একের পর এক ফিলিস্তিনিকে গুলি করে ইসরাইল। তখন ১৮ জন নিহত ও কয়েকশ আহত হন। তবে উইসেল শুরু থেকেই এ কর্মসূচিতে যেতে রাজি ছিল না।

কিন্তু গত ১৪ মে ইসরাইলের রাজধানী তেলআবিব থেকে পবিত্র জেরুজালেমে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস স্থানান্তরের দিন উইসেল আর নিজেকে ধরে রাখতে পারেনি।

ঝঞ্ঝা বিক্ষুব্ধ পৃথিবী সম্পর্কে ন্যূনতম জ্ঞান ছিল না যার, সেই অসম সাহসী কিশোরীই ইসরাইলের নিপীড়নবিরোধী মিছিলে শামিল হয়ে যায়।

যা তাকে ইসরাইলি স্নাইপারদের নির্বিচার গুলিতে নিহতদের একজনে পরিণত করে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে গত ৩০ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত নিহত ১১০ জন।
ইসরাইলের অবরোধে গাজা উপত্যকার অর্থনৈতিক অবস্থা চরম দুর্দশায় চলে গেছে।

উপকূলীয় অঞ্চলে দারিদ্র্যের সর্বনিম্ন সীমার মধ্যে বাস করছে উইসেলের পরিবার। রাজনীতির সঙ্গে তাদের কোনো সংযোগ ছিল না।

ইসরাইলি সেনাদের গুলিতে আহত ফিলিস্তিনিরা-এএফপি
ইসরাইলি সেনাদের গুলিতে আহত ফিলিস্তিনিরা-এএফপি

একসময় ইহুদিবাদী বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ওঠে ছোট্ট উইসেলের মন।

নিহত হওয়ার আগে সে জানিয়েছিল, এভাবে মুখ বুঝে আর ইসরাইলি বর্বরতা মেনে নেবে না সে। অবশ্যই অন্যদের সঙ্গে সীমান্তে গিয়ে বিক্ষোভ করবে।

এ কথা শুনে অন্য ভাইবোনরা উইসেলকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন। সে যাতে বিক্ষোভে না যায়, তা বোঝাতে চেষ্টা করে। কারণ ইসরাইলি সেনারা নির্বিচারে সবাইকে গুলি করে হত্যা করছে।

পরিবারের বাধা কানেই তোলেনি উইসেল ও তার ১১ বছরের ছোট ভাই। ১৪ মে তারা বিক্ষোভে অংশ নেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিক্ষোভে যোগ দিতে গিয়ে তারা সীমান্তে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলীর ভেতর গিয়ে ইসরাইলি নিপীড়নের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখায়। তখনই ইসরাইলি স্নাইপারের গুলিতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে উইসেল।

এ ঘটনায় তার পুরো পরিবার শোকে স্তব্ধ হয়ে গেছে। কিন্তু সান্ত্বনাও খোঁজেন না তারা। কারণ তাদের মেয়ে নিপীড়নের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করতে গিয়েছিল।

ইসরাইলি সেনাদের গুলিতে আহত দুই ফিলিস্তিনি কিশোর-গার্ডিয়ান
ইসরাইলি সেনাদের গুলিতে আহত দুই ফিলিস্তিনি কিশোর-গার্ডিয়ান

চাচি আনওয়ার বলেন, উইসেল এখন শহীদ। আমি প্রস্তুত। সে যা করে দেখিয়েছে, তাতে আমরা ভীত নই।

উইসেলের ছোট ভাই বলেছে, সোমবারে সীমান্তের বেড়া কাটতে গিয়েছিল তার বোন। তার হাতে একটা বেড়া কাটার যন্ত্রও ছিল।

অন্যরা জানান, উইসেল বিক্ষোভকারীদের পানি সরবরাহ করে দিত। এমনকি ইসরাইলের সেনাদের দিকে ছুড়তে সে পাথর নিয়ে এসে প্রতিবাদকারীদের হাতে দিত।

সোমবারের বিক্ষোভে নিহতদের তালিকায় উইসেল ছাড়া বাকি সবাই ছিলেন পুরুষ।

কিন্তু গাজায় শিশুদের গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা বিরল কিছু নয়। প্রায়ই এমন ঘটনা ঘটছে।

জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফ জানিয়েছে, ফিলিস্তিনিদের বসতবাড়িতে ফেরার অধিকার দাবিতে বিক্ষোভ শুরু হলে এ পর্যন্ত এক হাজার শিশু আহত হয়েছে।

সেভ দ্য চিলড্রেন বলেছে, তাদের হিসাবে আড়াইশ শিশু ইসরাইলের তাজা গুলিতে বিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছে।

আল বুরেইজ শরণার্থী শিবিরে উইসেলের পরিবারকে দুবেলা দুমুঠো খাবার জোগাড় করতেই সময় পার করতে হচ্ছে। মাসহ তারা ছয় ভাইবোন একটি ছোট্ট কক্ষে বসবাস করত।

আবার ঠিক সময় ভাড়া শোধ করতে না পারলে তাদের সেই কক্ষে থেকে উচ্ছেদ করা হতো।

বন্ধুরা জানায়, উইসেলকে সবসময় রাস্তায় এক্কাদোক্কা খেলতে দেখা যেত। আর তার মায়ের ফোনে অডিও ভার্সন ডাউনলোড করে কোরআন শুনত।

সুযোগের অভাবে তার জন্য পড়াশোনা ছিল বেশ কষ্টের। কিন্তু সে অঙ্ক করতে ভালোবাসতো। সুযোগ পেলেই গণিতের বই নিয়ে বসে পড়ত।

অংকে পারদর্শিতা দেখে তার শিক্ষক তাকে বলেছিলেন, বড় হলে সে যেন এ বিষয়ের ওপর উচ্চশিক্ষা নেয়।

এ ছাড়া আঁকিবুকি ছিল তার শখের কাজ। মৃত্যুর কয়েক সপ্তাহ আগেও নিজের নোটবইয়ে সে বেশ কয়েকটি ছবি এঁকেছিল।

গাজায় ইসরাইলি হত্যার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের টাইম স্কোয়ারে এক মুসলিম নারীর বিক্ষোভ-এএফপি
গাজায় ইসরাইলি হত্যার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের টাইম স্কোয়ারে এক মুসলিম নারীর বিক্ষোভ-এএফপি

উইসেলে ছবির আঁকার খাতা বের করে তার মা বলেন, সে ছিল আমার পরানের পরান। রাজনীতিতে অনাগ্রহী তার মেয়েটা বিক্ষোভে যোগ দেয়ার আগে তাকে বলে যায়, মা, আমি যদি মারা যাই, তবে আমাদের ছোট্ট কক্ষটিতে আমার ভাইবোনরা একটু আরামে থাকতে পারবে। তারা থাকতে একটু বেশি জায়গা পাবে।

জালে শত শত মাছ আটকে গেলে যেমন দেখায়, উইসেলরাও একটি কক্ষে সেভাবে গাদাগাদি করে থাকত।

তার বন্ধুরা জানিয়েছে, উইসেল ঠিক আর সবার মতো ছিল না। সে কখনও নাচ তো, কখনও গান গাইত। আবার কখনও বা সে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠত।

ইউনিসেফ বলেছে, গাজা

Leave a Reply

Your email address will not be published.