May 26, 2022

‘নয়া দামান’ গানে নেচে ভাইরাল হওয়া সূচনার গল্প

খুলনা: ‘আইলারে নয়া দামান আসমানেরি তেরা/বিছানা বিছাইয়া দিলাম শাইল ধানের নেড়া/দামান বও দামান বও’- কথার সিলেটের আঞ্চলিক এই গানটি কয়েক মাস ধরে সামাজিক মাধ্যমে ট্রেন্ডিংয়ে রয়েছে। গানটির সঙ্গে নিজের বিয়ের রংয়ের অনুষ্ঠানে নেচে নেট দুনিয়ায় ভাইরাল হন খুলনার মেয়ে খাদিজা ইসলাম সূচনা।

এই তরুণী হাজী মহসীন রোডের ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম ও বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে কর্মরত পারুল আক্তারের মেয়ে। খুলনা মেডিক্যাল কলেজের পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থী।

চলতি বছরের ১৫ মার্চ সূচনার বিয়ের রংয়ের অনুষ্ঠানে তার মাসহ বন্ধু-স্বজনদের নিয়ে ‘নয়া দামান’ গানের সঙ্গে নাচের ভিডিওটি ধারণ করা হয়েছিল শখের বশে। পরদিন ভিডিওটি প্রকাশ পেলে লোকগানের মনকাড়া সুর আর পরিবার-পরিজন নিয়ে সূচনার মনোমুগ্ধকর সাবলীল পরিবেশনা ঝড় তোলে সামাজিক মাধ্যমে।

মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যান সূচনা। ভিডিওটি পায় মিলিয়ন মিলিয়ন ভিউ।
খুলনায় বাবার বাড়িতে বাংলানিউজের মুখোমুখি হন সেই সূচনার। এ সময় তিনি তুলে ধরেন তার বিয়ের রংয়ের অনুষ্ঠানে নেচে ভাইরাল হওয়ার গল্প।

রংয়ের অনুষ্ঠানটি ভাইরাল করবেন, এমন পরিকল্পনা কি আগে থেকেই ছিল? এমন প্রশ্নের জবাবে সূচনা বলেন, ‘বিয়েতে ‘নয়া দামান’-এর নাচ করবো, সেটার ভিডিও হবে আবার তা ভাইরাল হবে; এতকিছু একেবারেই পরিকল্পিত ছিল না। তবে নাচটা আমাদের তোলা (অনুশীলন) ছিল আগেই। শুধু যে এই গানে নাচ করেছি, তা নয়। হিন্দি ও বাংলা অনেক গানেই নাচ করেছি আমরা। যেহেতু ছাদে উঠে নাচ করবো, সেহেতু আমাদের তো একটা প্রস্তুতি ছিলই। ‘নয়া দামান’ গানটিও লিস্টে ছিল। ১৫ মার্চ অনুষ্ঠান হয়েছে। আমি তার একদিন গানটা প্রথম শুনি। তখন সবাই একটু প্র্যাকটিসও করি। পরে সবাই যখন ছাদে গেলাম তখন সানি রহমান (সিনেমাট্রোগ্রাফার) বললেন, আপু আপনারা আপনাদের মতো করেন। তিনি বিভিন্ন ফ্রেমে ভিডিও করেছেন। আসলে গানটাও সুন্দর ছিল। পরবর্তীতে ভিডিওটি যখন আপলোড করা হলো, তখন অনেক মানুষ এটা পছন্দ করেন। ’

নাচে সূচনার প্রাতিষ্ঠানিক কোনো শিক্ষা নেই। তবে ৪ বছর বয়স থেকে গান শিখেছেন তিনি। কিন্তু তার ক্যাম্পাসের সবাই এখন তাকে নাচের জন্যই চেনেন। সারা দেশের মানুষও তাকে নাচের মাধ্যমেই চিনেছেন।

খুলনার আঞ্চলিক গান থাকতে বিয়ের অনুষ্ঠানে কেনো সিলেটের আঞ্চলিক গান বেছে নিয়েছেন সূচনা, এর কারণ বললেন নিজের মুখেই, ‘আসলে সিলেটের আঞ্চলিক গান বেছে নিয়েছিলাম গানটির কথার কারণে। ফেসবুকে আমার এক বন্ধু গানটি শেয়ার দেওয়ার পরে আমি এটি শুনি। নাচ করার সময় গানটি খুলনার না সিলেটের এ চিন্তাটা ছিল না। গানের শিল্পী সিলেটের মেয়ে এবং তার গাওয়া যে নিখুঁত সেটা শুনলেই বোঝা যায়। আর গানটি শুনলেই এর প্রতি একটি অদ্ভুত ভালো লাগা তৈরি হয়ে যায়। এজন্যই গানটি পছন্দ করা।

নাচের দৃশ্য ভাইরাল হওয়ার পর শ্বশুরবাড়ির মানুষ বিষয়টি কেমনভাবে দেখছেন? সূচনার ভাষ্যে, ‘আমার শ্বশুরবাড়ির সবাই অন্যদের কাছে এটা গল্প করে বলেন, এটা একটা ভালো লাগার বিষয়। গানটি বিভিন্ন মানুষ বিভিন্নভাবে দেখেছেন, সে কারণে তাদের পরিচিত মানুষদের সঙ্গে কথা বলার সময় এ টপিকটা আসে। তারা যখন বলেন, নয়া দামানের এই ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে, এটা দেখেছ? তখন আমার শ্বশুরবাড়ির লোকরা বলেন, এটা তো আমাদের বাড়ির বউ। ’

নাচটি ভাইরাল হওয়ার পর রাস্তা-ঘাটে মানুষ সূচনাকে নতুনভাবে চিনছেন বলেও জানান তিনি। তার কথায়, ‘এবার আমার জন্মদিনে আমি ঢাকার একটি শপিংমলে গিয়েছিলাম। ওইদিন হঠাৎ করে একজন আপু আমাদের চিনতে পেরে নিজে থেকে আগ্রহ নিয়ে এসে সেলফি তোলেন। ওইটা আমার খুব ভালো লেগেছে। এই নাচের পর অনেকেই আমাকে নতুনভাবে চিনেছেন। ’

আগামীতে যারা বিয়ে করবেন, তাদের উদ্দেশ্যে সূচনা বলেন, ‘বিয়ে সবার জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কেউ যদি একটা রুমে বসে বিয়ে করেন তবে সেটাও তার জন্য স্মরণীয় ও আকর্ষণীয়। বিয়ে মানেই হলো একটা সুন্দরদিন। আমি মনে করি এই দিনটা সবারই তাদের মতো করে সুন্দরভাবে উদযাপন করা উচিৎ। মানুষ যে বিয়েটা করছে সেটা অটুট থাকুক সেটাই কামনা। সব কিছু পুরানো হয়ে যাবে, কিন্তু সম্পর্কগুলো টিকে থাকবে। সম্পর্ক বা ভালোবাসাগুলো টিকে থাক, এটাই প্রত্যাশা। ’

কখনো যদি রুচি বা চিন্তাধারার সঙ্গে মেলে এমন কাজের প্রস্তাব পান, তাহলে ভবিষ্যতে শোবিজে কাজ করার বিষয়টি ভেবে দেখবেন বলে জানিয়েছেন সূচনা।

সূচনার স্বামী আহমেদ সাঈফ মুনতাসীর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা শেষে বর্তমানে চীনের সানহাই মাইক্রোফটটে কর্মরত আছেন। পড়াশোনা শেষ করে সূচনা একজন চিকিৎসক হিসেবে সবার দোয়া আর ভালোবাসা নিয়ে সেবার মাধ্যমে এগিয়ে যেতে চান।

Leave a Reply

Your email address will not be published.