May 26, 2022

শান্তির একমাত্র উপায় ইসলামি শাসন: তালেবান

আফগানিস্তানে ‘ইসলামী শাসন ব্যবস্থা’ই যুদ্ধের অবসান এবং মানবাধিকার নিশ্চিত করার একমাত্র উপায়, যার মধ্যে রয়েছে নারীদের অধিকারও।

রোববার দেয়া এক বিবৃতিতে এই মন্তব্য করেছে আফগানিস্তানের সশস্ত্র গোষ্ঠী তালেবান। পাশাপাশি, তারা শান্তি আলোচনায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছে।

আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর সেনাবাহিনী প্রত্যাহার শুরু হওয়ার পর থেকে গত কয়েক মাস ধরে সরকারের সাথে তালেবানের শান্তি আলোচনা আটকে আছে এবং সেখানে সহিংসতাও বৃদ্ধি পেয়েছে।

আশঙ্কা রয়েছে যে, যদি তালেবানরা ক্ষমতায় ফিরে আসে তবে তারা তাদের মতো করে ইসলামী আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ শুরু করবে, যার অধীনে মেয়েদের স্কুলে যাওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছিল এবং স্টেডিয়ামগুলিতে ব্যভিচারের মতো অপরাধের জন্য অভিযুক্ত নারীদের পাথর মেরে হত্যা করা হয়েছিল।

সহিংসতা বৃদ্ধির পরেও তালেবান শান্তি আলোচনায় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিল জানিয়ে দলটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও উপ-নেতা মোল্লা আবদুল গণি বারদার রোববার দেয়া বিবৃতিতে বলেন, ‘আলোচনায় আমাদের নিয়মিত অংশগ্রহণ পরিস্কার ইঙ্গিত দেয় যে আমরা পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানে বিশ্বাসী।’

তিনি বলেন, ‘আফগানিস্তানে সংঘাত নিরসনের একমাত্র উপায় হ’ল সমস্ত বিদেশী বাহিনী চলে যাওয়ার পরে একটি ইসলামী শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। কারণ, আফগানদের সকল সমস্যা সমাধানের জন্য একটি আসল ইসলামী শাসন ব্যবস্থাই সর্বোত্তম মাধ্যম।’

তালেবানের এ মুখপাত্র বলেন, আমরা এটি অনুধাবন করছি যে, বিদেশি সেনা প্রত্যাহারের পর প্রতিষ্ঠিত হতে যাওয়া সিস্টেমটির ধরন সম্পর্কে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং আফগানদেরও প্রশ্ন রয়েছে।

তালেবান ক্ষমতায় আসলে গৌরবময় ধর্ম ইসলামের ভিত্তিতে নারীসহ সকল আফগানের অধিকার নিশ্চিত করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।

তবে অনেকেই আশঙ্কা করছেন যে, অধিকারের তালেবান ব্যাখ্যাটি ২০০১ সাল থেকে আফগান সমাজে ঘটে যাওয়া পরিবর্তনের সাথে সংঘর্ষিক হবে।

গত মে মাসে মার্কিন গোয়েন্দাদের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল যে, তালেবানরা ক্ষমতায় ফিরে আসলে নারীদের অধিকারের বিষয়ে গত দুই দশকে যে অগ্রগতি হয়েছে তা আবার আগের অবস্থায় ফিরে যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.