May 26, 2022

ব্রাজিলের প্রথম মুসলিম বিচারক হলেন আলি মজলুম

ব্রাজিলের অসংখ্য অভিবাসীর মধ্যে সাফল্য ও কৃতিত্বে মেধার সাক্ষর রাখাদের অন্যতম হলেন মুহাম্মাদ আলি মজলুম। ১৯৫০ সালে আলির বাবা ব্রাজিলে এসে পৌঁছেন। তখন তাঁর কল্পনায়ও ছিল না, তাঁর সন্তান একদিন বিশ্বের সর্ববৃহৎ ক্যাথলিক দেশের ফেডারেল জজ হিসেবে নিয়োগ পাবে। ফেডারেল বিচারক হিসেবে আলি ছিলেন লেবানন বংশোদ্ভূত প্রথম মুসলিম।

মূলত অন্যান্য অভিবাসীর মতো আলি মজলুমের বাবাও কাজের সন্ধানে ব্রাজিলে পাড়ি জমিয়েছিলেন। প্রথমে তিনি পথ-বিক্রেতা হিসেবে কাজ করেন। অতঃপর একজন ফার্নিচারের দোকান দেন। ১৯৬০ সালে আলি জন্মগ্রহণ করেন। আলি ছিলেন ৮ ভাই বোনের একজন।

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তর শেষ করে আলি স্থাপত্যবিদ্যায় স্নাতকে পড়া শুরু করেন। কিন্তু এক্ষেত্রে কাজ করা তাঁর মোটেও ইচ্ছা ছিল না। এরপর আইন বিভাগ থেকে ১৯৮৭ সালে স্নাতক সম্পন্ন করেন। গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করে প্রথমে পুলিশের দায়িত্ব পালন করেন। অতঃপর ১৯৯২ সালে ব্রাজিলের প্রথম ফেডারেল বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান।

আলি মজলুম বলেন, আমি এখন পর্যন্ত এই দেশের একমাত্র মুসলিম ফেডারেল জজ। অতি শিগগির আমি ফেডারেল সুপ্রিম কোর্টের ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে পদোন্নতি অর্জন করব। আশাকরি আগামী বছরই আমার পদায়ন ঘটবে।

আলি মজলুম কেবলমাত্র বিচারক হিসেবে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি। বরং তিনি আইন, বিচার ও ইসলামী বিধান সংক্রান্ত নানা গ্রন্থ রচনা করেন। নিজের মুসলিম পরিচয় তিনি ভুলে যাননি। বরং রচনাবলিতে ব্রাজিলের মুসলিমদের জন্য ইসলাম সম্পর্কে সুন্দর চিত্রায়ন করেন।

আলি মজলুম বলেন, আইন বিষয়ে পাঁচটি বই এবং ইসলামী জীবনাচার সম্পর্কে একটি বই লিখেছি। এতে ইসলামী জীবনপদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।’ ১৯৯৭ সালে সর্বপ্রথম তিনি বই লিখেন। তা ব্রাজিলের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সহায়ক গ্রন্থ হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা লাভ করে।

ব্রাজিল ও লেবাননের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সম্পর্ক বিদ্যমান। বিভিন্ন সময় লেবাননের বিশাল সংখ্যক অভিবাসী ব্রাজিলে যায়। ব্রাজিলে লেবানন অভিবাসীদের সর্ববৃহৎ শিবির আছে। তাই দেশের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে লেবাননের অভিবাসী যোগ্যতায় নিয়োগ পান।

ব্রাজিল বিশ্বের বর্ণবাদি দেশগুলোর অন্যতম একটি দেশ ছিল। তবে ডানপন্থীদের উত্থানে তা অনেকটা কমে এসেছে। আলিম মজলুম বলেন, বর্ণবাদ মুক্ত সমাজকে সবাই মেনে নিচ্ছে। তবে উঁচু শ্রেণির রাজনীতিবীদদের মধ্যে তা এখনো বহাল আছে। তারপরও এখানে অনেক চার্চ আছে যাতে প্রকাশ্যে ইসলামের বিরুদ্ধে প্রচারণা করা হয়!

ব্রাজিলের অসংখ্য অভিবাসীর মধ্যে সাফল্য ও কৃতিত্বে মেধার সাক্ষর রাখাদের অন্যতম হলেন মুহাম্মাদ আলি মজলুম। ১৯৫০ সালে আলির বাবা ব্রাজিলে এসে পৌঁছেন। তখন তাঁর কল্পনায়ও ছিল না, তাঁর সন্তান একদিন বিশ্বের সর্ববৃহৎ ক্যাথলিক দেশের ফেডারেল জজ হিসেবে নিয়োগ পাবে। ফেডারেল বিচারক হিসেবে আলি ছিলেন লেবানন বংশোদ্ভূত প্রথম মুসলিম।

মূলত অন্যান্য অভিবাসীর মতো আলি মজলুমের বাবাও কাজের সন্ধানে ব্রাজিলে পাড়ি জমিয়েছিলেন। প্রথমে তিনি পথ-বিক্রেতা হিসেবে কাজ করেন। অতঃপর একজন ফার্নিচারের দোকান দেন। ১৯৬০ সালে আলি জন্মগ্রহণ করেন। আলি ছিলেন ৮ ভাই বোনের একজন।

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তর শেষ করে আলি স্থাপত্যবিদ্যায় স্নাতকে পড়া শুরু করেন। কিন্তু এক্ষেত্রে কাজ করা তাঁর মোটেও ইচ্ছা ছিল না। এরপর আইন বিভাগ থেকে ১৯৮৭ সালে স্নাতক সম্পন্ন করেন। গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করে প্রথমে পুলিশের দায়িত্ব পালন করেন। অতঃপর ১৯৯২ সালে ব্রাজিলের প্রথম ফেডারেল বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান।

আলি মজলুম বলেন, আমি এখন পর্যন্ত এই দেশের একমাত্র মুসলিম ফেডারেল জজ। অতি শিগগির আমি ফেডারেল সুপ্রিম কোর্টের ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে পদোন্নতি অর্জন করব। আশাকরি আগামী বছরই আমার পদায়ন ঘটবে।

আলি মজলুম কেবলমাত্র বিচারক হিসেবে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি। বরং তিনি আইন, বিচার ও ইসলামী বিধান সংক্রান্ত নানা গ্রন্থ রচনা করেন। নিজের মুসলিম পরিচয় তিনি ভুলে যাননি। বরং রচনাবলিতে ব্রাজিলের মুসলিমদের জন্য ইসলাম সম্পর্কে সুন্দর চিত্রায়ন করেন।

আলি মজলুম বলেন, আইন বিষয়ে পাঁচটি বই এবং ইসলামী জীবনাচার সম্পর্কে একটি বই লিখেছি। এতে ইসলামী জীবনপদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।’ ১৯৯৭ সালে সর্বপ্রথম তিনি বই লিখেন। তা ব্রাজিলের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সহায়ক গ্রন্থ হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা লাভ করে।

ব্রাজিল ও লেবাননের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সম্পর্ক বিদ্যমান। বিভিন্ন সময় লেবাননের বিশাল সংখ্যক অভিবাসী ব্রাজিলে যায়। ব্রাজিলে লেবানন অভিবাসীদের সর্ববৃহৎ শিবির আছে। তাই দেশের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে লেবাননের অভিবাসী যোগ্যতায় নিয়োগ পান।

ব্রাজিল বিশ্বের বর্ণবাদি দেশগুলোর অন্যতম একটি দেশ ছিল। তবে ডানপন্থীদের উত্থানে তা অনেকটা কমে এসেছে। আলিম মজলুম বলেন, বর্ণবাদ মুক্ত সমাজকে সবাই মেনে নিচ্ছে। তবে উঁচু শ্রেণির রাজনীতিবীদদের মধ্যে তা এখনো বহাল আছে। তারপরও এখানে অনেক চার্চ আছে যাতে প্রকাশ্যে ইসলামের বিরুদ্ধে প্রচারণা করা হয়।

মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনী পাঠ করে ইসলাম গ্রহণ করলেন চিকিৎসাবিজ্ঞানী

ইসলাম শিক্ষা দেয় যে আল্লাহ দয়ালু, করুনাময়, এক ও অদ্বিতীয়। ইসলাম মানব জাতিকে সঠিক পথ দেখায়। ইসলামী বিশ্বাস অনুসারে, আদম হতে শুরু করে আল্লাহ্ প্রেরিত সকল নবী ইসলামের বাণীই প্রচার করে গেছেন। যুগে যুগে বহু মানুষ ভিন্ন ধর্ম থেকে ইসলাম গ্রহন করেছেন।

ব্যক্তিগত পড়াশোনায় ইসলামের সন্ধান : চিকিৎসক ও পদার্থবিদ স্যার টমাস লডার ব্রুন্টন ১৮৪৪ সালে স্কটল্যান্ডের রক্সবার্গে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি লেখাপড়া করেন ইউনিভার্সিটি অব এডিনবার্গে ‘ফার্মাকোলজি’ বিভাগে এবং সেন্ট বার্থলোমিউজ হাসপাতালে কর্মজীবন শুরু করেন।

চিকিৎসা বিজ্ঞানে বিশেষ অবদানের জন্য ১৯০০ সালে রানি ভিক্টোরিয়া কর্তৃক সম্মানজনক ‘নাইটহুট’ এবং ১৯০৮ সালে সম্মানজনক ‘বেরনট’ খেতাব লাভ করেন। ‘এনজিনা পেকটোরিজ’-এর চিকিৎসায় ‘এমেল নাইট্রিট’-এর ব্যবহার চিকিৎসা শাস্ত্রে সবচেয়ে বড় অবদান বলে মনে করা হয়। ধর্মতত্ত্ব বিষয়ে তার ব্যক্তিগত উৎসাহ ও গবেষণার পথ ধরে ইসলামের সন্ধান পান এবং মহানবী (সা.)-এর জীবন ও শিক্ষা তাকে ইসলামগ্রহণে উদ্বুদ্ব করে। মুসলিম হওয়ার স্যার জালালুদ্দিন লডার ব্রুন্টন নামধারণ করেন।

ধর্মতত্ত্বের প্রতি প্রবল আগ্রহ : আমি খ্রিস্টান মা-বাবার প্রভাবেই প্রতিপালিত হই। অল্প বয়সেই ধর্মতত্ত্বের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠি। আমি চার্চ অব ইংল্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। অনিয়মিতভাবে মিশনারিতে কাজ করতেও ইচ্ছুক ছিলাম। কয়েক বছর আগে আমি ‘চিরন্তন ব্যথা’ মতবাদের প্রতি মনোযোগী হই।

যার মূলকথা হলো সীমিতসংখ্যক মানুষ ছাড়া পৃথিবীর সব মানুষ ব্যথিত। এ মতবাদ আমার কাছে ঘৃণ্য হয়ে উঠেছিল এবং আমি সংশয়বাদী হয়ে উঠেছিলাম। আমার যুক্তি ছিল স্রষ্টা নিজের শক্তি ব্যবহার করে মানুষ সৃষ্টি করেছেন এবং আগে থেকেই নির্ধারণ করে রেখেছেন যে তারা চিরদিন ব্যথিত হবে; জ্ঞানী, ন্যায়পরায়ণ ও প্রেমময় হবে না। তাঁর এই অবস্থান বহু মানুষের চেয়ে নিচুমানের। এরপর নিজেকে প্রশান্ত করতে আমি অন্য ধর্মগুলো পর্যালোচনা করার সিদ্ধান্ত নিই।

স্রষ্টা আনুগত্যের তীব্র ইচ্ছা : আমার ভেতর ইবাদত ও প্রকৃত স্রষ্টার আনুগত্যের ইচ্ছা প্রবল হয়ে ওঠে। খ্রিস্টধর্মের অনুসারীরা বলে আমরা বাইবেলের অনুসারী। কিন্তু অনুসন্ধান করে দেখি তাদের দাবি বাস্তবতাবিরোধী।

আমার ভেতর প্রশ্ন জাগল—এটা কি সম্ভব বাইবেল ও যিশুখ্রিস্টের শিক্ষাকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে? সুতরাং গভীর মনোযোগসহ বাইবেল পাঠ শুরু করলাম। অধ্যয়নের পর বুঝলাম আমার আরো জানার প্রয়োজন আছে। আমি সত্য জানতে এবং নিজেকে মূল্যবান মুক্তায় পরিণত করতে ইসলাম অধ্যয়ন শুরু করি। ইসলামে এমন কিছু বিষয় আছে, যা আমাকে সে সময় আকর্ষণ করছিল।

মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনী পাঠ : অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনী পাঠ করি। আগে আমি তাঁর সম্পর্কে খুব সামান্যই জানতাম। কিন্তু এটা জানতাম যে খ্রিস্টানরা আরবের এই নবীর নিন্দা করে। আমি সেসব নিন্দা পেছনে ফেলে নিরপেক্ষভাবে তাঁর জীবনী পাঠ করলাম।

কিছুটা পাঠের পরই বুঝতে পারলাম মহান স্রষ্টা ও চিরন্তন সত্য সম্পর্কে তিনি যা বলেছেন তাতে সন্দেহ করার কোনো অবকাশ নেই। তিনি মানবতার পক্ষে যে অবদান রাখেন, তার পরও তাঁর সমালোচনা চরম অন্যায়। যেসব মানুষ ছিল মূর্তির উপাসনাকারী, অপরাধের মধ্যে বেঁচে থাকত, নোংরামি উলঙ্গপনা ও অশ্লীলতায় মগ্ন ছিল,

তিনি তাদের কাপড় পরিয়েছেন, তাদের পরিচ্ছন্নতা শিখিয়েছেন, তাদের ব্যক্তিত্ববান, আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ও অতিথিপরায়ণ করেছেন এবং তাদের মূর্তিগুলো ধ্বংস করে তাদের একমাত্র আল্লাহর সন্ধান দিয়েছেন। ফলে ইসলাম ধর্মান্তরিত মানুষের সবচেয়ে শক্তিশালী সংগঠনে পরিণত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.