May 21, 2022

হাত নেই, পা দিয়ে বিমান চালিয়ে গিনেস বুকে নাম

দুই হাত ছাড়াই জন্মগ্রহণ করেছেন পৃথিবীর বুকে। নিজের লক্ষ্যে পৌঁছাতে জীবনে অনেক যু’দ্ধ করতে হয়েছে। তবুও দমে যান নি এই নারী। শুধুমাত্র পা দিয়েই জীবনের অ’সাধ্য সব কাজ করে ফেলেছেন। তিনিই পৃথিবীর একমাত্র, যিনি শুধুমাত্র পা দিয়ে বিমান চালাতে পারেন। নাম তার জেসিকা কক্স।

আমেরিকান তায়েকান্দো অ্যাসোসিয়েশনের প্রথম আর্মলেস ব্ল্যা’ক বেল্টধারী নারী জেসিকা। সেই সঙ্গে ২০০৮ সালে বিশ্বের প্রথম আর্মলেস লাইসেন্সধারী পাইলট হন এই মা’র্কিন নারী। তার এই প্রতিভার জন্য গিনেস বুকেও নাম উঠেছে তার। এরপর টানা ৩ বছর জেসিকা মোট ৮০ ঘণ্টা বিমান চালিয়েছেন।

শুধু বিমান চালাতেই নয় বরং কি-বোর্ড টাইপিং, পিয়ানো বাজানো, সাঁতার কা’টা, ফোন ব্যবহার সবই পারেন তিনি। এমনকি পা দিয়ে নিজের ব্যক্তিগত বস কাজই করেন প্রতিভাবান এই নারী।

জীবনে কোনো কাজেই থেমে যাননি জেসিকা। ছোট থেকেই তিনি নিজেকে প্রস্তুত করেছেন। মাত্র ৩ বছর বয়স থেকে জেসিকা নাচ ও শরীরচর্চা করা শুরু করেন। ৫ বছর বয়সে সাঁতার কাটতে শেখেন তিনি। ১০ বছর বয়স থেকে তায়োকান্দোও শিখতে শুরু করেন। বাবা-মায়ের পর স্বামী আসেন তার জীবনে। স্বামীর নাম প্যাট্রিক। তিনি চতুর্থ ডিগ্রির ব্ল্যা’ক বেল্ট প্রা’প্ত তায়োকান্দ প্র’শিক্ষক। শিক্ষার্থী ও প্র’শিক্ষকের মনে একসময় ভালোবাসা জেগে ওঠে। এরপরই তারা বিয়ে করেন।

৩৯ বছর বয়সী এ নারী পা দিয়েই বিমান চালাতে পারেন। শুধু তাই নয়, গাড়ি চালানো থেকে শুরু করে রান্না এমনকি ঘরও গু’ছিয়ে নেন জেসিকা। স্বামী প্যাট্রিকও ঘরের কাজে নিরলস সহায়তা করেন। মা’র্কিন যুক্তরা’ষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের টুসন শহরে বসবাস করেন এ দম্পতি।

২০১০ সালে প্রেম হয় তাদের। এর দুই বছর পর বিবাহ বন্ধনে আব’দ্ধ হন জেসিকা ও প্যাট্রিক। জেসিকা বলেন, ‘প্যাট্রিক খুবই ভালো মানুষ। সে না থাকলে হয়তো আমি জীবনে এতদূর এগিয়ে যেতে পারতাম না। সব বি’ষয়েই সে আমাকে উৎসাহ দিয়েছে, সঙ্গে থেকেছে। প্রিয়জনের কাছ থেকে এর চেয়ে আর বেশি কিছু চাই না।’

জেসিকা তার জীবনধারণের বি’ষয়ে বলেন, ‘জীবনের পদে পদে শিখছি এখনো। একটি বয়স পর্যন্ত আমা’র মা দেখাশোনা করতেন। তবে প্রা’প্ত বয়স্ক হওয়ার পর থেকে জামা-কাপড় পরা থেকে শুরু করে দাঁত ব্রাশ সবই শিখেছি। এ ছাড়াও টয়লেট ব্যবহার, গোসল করা, ঘর গোছানো, ফোন ব্যবহার করাসহ নিজের কাজগু’লো করতে শিখেছি। এমনও হয়েছে ড্রেসের বোতাম লাগাতে পারতাম না। নিজের কাপড় মেলে দিতে পারতাম না। এখন সবই আয়ত্তে এসেছে।’

জেসিকা পা দিয়েই মন ভোলানো সুর তোলেন পিয়ানোতে। গানও গাইতে পারেন তিনি। জেসিকা ও প্যাট্রিক অবসর পেলেই বিশ্ব ভ্রমণে বের হন। পাশাপাশি তারা ‘বিকলাঙ্গ মানুষদের কাউন্সিলিং করান। যাতে তারা নিজেদের বোঝা না ভেবে সমাজে মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.