May 26, 2022

জেদ থেকে উদ্যোক্তা, মেডিকেল ছাত্রী তমা এখন লাখপতি

এমবিবিএসের কঠিন সিলেবাসের পড়াশোনায় যখন হাঁপিয়ে উঠার অবস্থা তখন শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজে ৪র্থ বর্ষের তাহমিনা হক তমা এখন ব্যবসায়ী।

ছোটোবেলা থেকেই দায়িত্বশীল তমা সবসময় পরিবারের জন্য কিছু করতে চেয়েছে। মেডিকেলে পড়া শুরুর পর থেকেই দৈনন্দিন খরচ চলতো টিউশন দিয়ে। পরিবারে আর্থিক অবস্থা বরাবরই ভালো ছিল তাই আর্থিক অনটন বুঝে উঠা হয়নি আগে।

সব ভালোই চলছিল হঠাৎ গত বছরের মার্চে বাবার হার্টএটাক ও চাকরি বদলি, পারিবারিক ঝামেলা, করোনা মহামারি সব মিলিয়ে বাসায় থাকতে থাকতে অনেক শিক্ষার্থীর মতো তমাও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল।

পরিবারের সবাই তখন খাগড়াছড়ি। কিন্তু এই করোনা পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত নিলেন হবিগঞ্জে ফিরবেন, অনলাইন বিজনেস শুরু করবেন। ২০২০ সালের জানুয়ারি পর্যন্তও ভাবতে পারেনি এই বছরের মাঝখান থেকে জীবনটা পুরোই উল্টেপাল্টে যাবে।

শুরু গল্পটা মোটেও সহজ ছিলো না। চাকরিজীবী পরিবারের সদস্যরা মেনে নিচ্ছে না। মেয়ে মেডিকেলে পড়ে অনলাইন বিজনেস করলে কিভাবে হবে! মানুষ কি বলবে! অতঃপর এসব না ভেবে বিজনেস শুরুর জন্য হবিগঞ্জ পাড়ি জমালেন তিনি।

জেদ করেতো সে এসে গেল কিন্তু ব্যবসার জন্য মূলধন প্রয়োজন ক্যাশ টাকা তো নেই, আগে ভাবনায় এমন আসলে সেভিংস করে রাখতেন হয়তো। এদিকে বাসা থেকে টাকা দিবে না। উপায় কি এখন?

দীর্ঘশ্বাস নিয়ে তমা বলেন, মেডিকেলে পড়াকালীন সময় হবিগঞ্জে বাসা নিয়ে থাকতাম। শখ করে গড়েছিলাম সোফা কেবিনেট আর একটা দৃষ্টিনন্দন একুরিয়াম! কানে ছিল স্বর্ণের দুল। আর আমার ২-৩ বছরে কেনা অসংখ্য শাড়ি

মেকাপ কসমেটিকস! সব রিসাইকেল বিনে সেল করে দিলাম আধার থেকেও আধা দামে! একে একে খালি হতে থাকলে সব! স্বর্ণের কানের দুল বেচে কিনলাম মাটির জিনিসপত্র! আর সোফা কেবিনেট একুরিয়ামের টাকা থেকে থ্রিপিস! শুরু হলো আমার পেইজ Toma’s Exclusive Mart এর যাত্রা!

যাত্রাটা সেভাবেই শুরু এখন থেকে প্রায় আটমাস আগে। অনলাইনের যাত্রাটা খুব একটা সহজ না, এতো এতো পেজ এতো এতো সেলারের মাঝে নিজের জায়গা করে নেয়া কি আর সহজ কথা।

বিক্রি হচ্ছে না তেমন, হতাশ হচ্ছিলেন। যাও বিক্রি হতো সেসব মাটির জিনিসপত্র ভেঙে একাকার, কাস্টমারকে টাকা ফেরত দিতে দিতে নাজেহাল অবস্থা। অবশ্য এখন তমার প্রোডাক্টের মাঝে ঢাকাই জামদানি, কুমিল্লার খাদি পাঞ্জাবি, হ্যান্ড মেইড অর্নামেন্টস, কাপল সেটই প্রধান।

মাঝখানে একটা সময়ে টাকার সংকটে পড়তে হলো তাকে, একরাতে তো দশ হাজার টাকার জন্য সে কত যে ঘুরেছেন। কতজনের কাছে চেয়েছেন কিন্তু কেউ দেয়নি। এতো এতো ব্যাংক অথচ কেউ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে লোন দেয় না, লোন নিতে গেলেও সরকারি বা বেসরকারি চাকরি থাকা জরুরি কিনা!

ব্যবসার আটমাস পর গত ঈদে তমার অনলাইন শপ থেকে দেড় লাখ টাকার প্রোডাক্ট বিক্রি হয়েছে। তমা জানান, এখন প্রতিমাসে ৩০-৫০ হাজার টাকার সেল হয়। কোনো শখপূরণ করা না গেলেও নিজের খরচটা নিজে চালানো যায়। মাঝেমাঝে ফ্যামিলিতেও কন্ট্রিবিউট করা যায়।

পড়াশোনার চাপ সামলিয়ে কিভাবে ব্যবসা চালাচ্ছেন জানতে চাইলে তমা বলেন, মেডিকেলে পড়াশোনা করে কোনো হেল্প ছাড়া বিজনেস চালানো ইজি ব্যাপার না, এই যে সেকেন্ড প্রফ হলো মার্চ মাসে.. সে যে কি কষ্ট! ২ মাস বিজনেস ই বন্ধ রাখতে হয়েছিল লোকের অভাবে পড়াশোনার মেইনটেইনের পাশাপাশি বিজনেস কষ্টের বাট ইম্পিসবল না!

দিন যাচ্ছে, তমার ব্যবসার পরিধি বাড়ছে, ঝামেলাও বাড়ছে। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা বললেন, ইচ্ছা থাকলে সবই সম্ভব ব্যক্তি জীবনে ভালো ডাক্তার যেমন হতে চাই তেমনি আমার এই ছোট্ট বিজনেসটা অনেক দূর এগিয়ে নিতে চাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published.