May 21, 2022

সব বন্ধ থাকলেও সড়কে চলাচল বাড়ছে রাজশাহীতে

রাজশাহী: ‘কঠোর লকডাউনের’ চতুর্থ দিনে রোববার (৪ জুলাই) রাজশাহীতে একমাত্র কাঁচাবাজার ছাড়া দোকানপাট, সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালতসহ সবকিছুই বন্ধ রয়েছে। কিন্তু সড়কে মানুষের চলাচল আবারও বেড়েছে।

প্রতিদিনের মতো রোববারও কঠোর অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মোড়ে মোড়ে ব্যারিকেড দিয়ে চলছে তল্লাশি।

এরপরও সকাল থেকেই সড়কে বেড়েছে ব্যক্তিগত যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচল। বিভিন্ন অজুহাতে কয়েক দিনের তুলনায় রোববার অনেক বেশি মানুষ বাইরে বেরিয়েছেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে সড়কে যানবাহন চলাচল কমিয়ে আনার চেষ্টা করছেন। প্রধান প্রধান সড়কসমূহে চলছে পুলিশ, র‌্যাব ও সেনাবাহিনীর টহল।

এরপরও কঠোরতা ভেঙে চলছে ব্যক্তিগত যানবাহন। এরমধ্যে প্রাইভেট কার ও মোটরসাইক বেশি চলাচল করছে। তারপরই রয়েছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। তবে উপযুক্ত প্রমাণ দিতে না পারলে তার বিরুদ্ধে মামলা ও জরিমানা হচ্ছে।

রাজশাহীর জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ‘কঠোর লকডাউনের’ মধ্যে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করায় গত শনিবার (৩ জুলাই) রাজশাহীতে ১ লাখ ৫ হাজার ৫৪০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মামলা হয়েছে ১১৭ জনের বিরুদ্ধে। এর মধ্যে মহানগরের ৪১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে ও ২১ হাজার ৯০০ টাকা জরিমানা হয়েছে। আর জেলায় ৭৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা ও ৮৩ হাজার ৬৪০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া রাজশাহী জেলায় কঠোরভাবে ‘লকডাউন’ বাস্তবায়নের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তৎপর থাকতে বলা হয়েছে।

রোববার চতুর্থ দিনেও ‘কঠোর লকডাউন’ বাস্তবায়নে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। সকাল থেকে রাজশাহী শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ও পাড়া-মহল্লার গলিপথেও টহল দিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। একমাত্র কাঁচাবাজার ছাড়া সবকিছুই বন্ধ রয়েছে।

রাজশাহী শহরের তিনটি প্রবেশমুখসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বসানো হয়েছে চেকপোস্ট। শহরের তিন দিকের প্রবেশমুখ আমচত্বর, কাশিয়াডাঙ্গা ও কাটাখালী এলাকায় পুলিশ সদস্যরা ব্যারিকেড দিয়ে ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করছেন। এসব পয়েন্টে মানুষ ও যানবাহনের অবাধ প্রবেশ ঠেকাতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে মহানগর পুলিশ। পণ্যবাহী পরিবহন, পিকআপ ভ্যান ও মালবাহী ট্রাক ছাড়া অন্য কোনো যানবাহন রাজশাহী শহরে ঢুকতে বা বের হতে দেওয়া হচ্ছে না।

তবে রাজশাহী মহানগর ও জেলার প্রতিটি উপজেলায় জরুরি সেবাসমূহ চালু রয়েছে। এর মধ্যে রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স, ওষুধ ও খাবার পরিবহনের যানবাহনগুলো আগের মতো স্বাভাবিক নিয়মেই চলাচল করছে। এছাড়া বিভিন্ন এলাকার ভেতরের রাস্তায় রিকশা চলাচল করছে।

পুলিশ, র‌্যাব ও আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্যদের পাশাপাশি রাজশাহী সিটি এবং প্রতিটি উপজেলায় সেনাবাহিনীর দু’টি করে টিম টহল দিচ্ছে। পাশাপাশি তিন প্লাটুন বিজিবি মাঠ পর্যায়ে ‘লকডাউন’ কার্যকরের দায়িত্ব পালন করছে। রয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালতও।

রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মহানগরের ‘লকডাউন’ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন- রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. আবু কালাম সিদ্দিক। তিনি পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে সাহেব বাজার জিরোপয়েন্টসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঘুরে দেখেন। এ সময় যানবাহন থামিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.