May 26, 2022

ভিন্ন ধর্মের পন্ডিতরাও স্বীকার করেছেন মহানবী (সাঃ)র শ্রেষ্ঠত্ব

আল্লাহ্‌ মহান। এই সুন্দর দুনিয়ার মালিক একমাত্র আল্লাহ্‌। তিনিই আমাদের একমাত্র ভরসা। বিভিন্ন হাদীস অনুসারে আল্লাহর ৯৯টি নামের একটি তালিকা আছে।

কিন্তু তাদের মধ্যে কোনো সুনির্দিষ্ট ধারাবাহিক ক্রম নেই। বান্দা-বান্দি আল্লাহকে যে কোন নামে ঢাকলেই তিনি সাড়া দেন।

আল্লাহ বান্দার প্রতি ক্ষমাশীল। মানুষের জীবনে প্রতিটি মুহূর্তই আল্লাহ তাআলার নেয়ামতে পরিপূর্ণ।

মহান আল্লাহ মানব জাতির জন্য রহমতস্বরূপ পৃথিবীতে প্রেরণ করেছিলেন মহানবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে। তিনি ছিলেন সুন্দরতম চরিত্রের অধিকারী। যার সাক্ষ্য আল্লাহ নিজেই দিয়েছেন।

১ লাখ বা ২ লাখ নবী রসুল এসেছেন দুনিয়াতে। মুহাম্মদ (সা.) শুধু সর্বশ্রেষ্ঠ নয়, সর্বশেষ নবীও। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় হাবিবকে মহান চরিত্রের অধিকারী এবং সর্বোত্তম আদর্শ হিসেবে ঘোষণা করেছেন।

আল্লাহ স্বয়ং তাঁকে উদ্দেশ করে বলেছেন, আমি আপনাকে মাখলুকাতের জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরণ করেছি। হজরত মুহাম্মদ (সা.) জগদ্বাসীর জন্য শান্তির সমাজ প্রতিষ্ঠায় অবদান রেখেছেন।

তিনি এমন এক জীবনাদর্শের পথ দেখিয়েছেন যেখানে এক মানুষের সঙ্গে অন্য মানুষের ভেদাভেদকে স্বীকার করা হয় না। মানুষ হিসেবে, ধ’র্ম প্রবর্তক হিসেবে মহানবী হজরত মুহাম্ম’দ (সা.)-এর শ্রেষ্ঠত্ব অকপটে স্বীকার করেছেন ভিন্ন ধ’র্মাবলম্বী গুণীজনরাও।

ইনসাইক্লোপেডিয়া ব্রিটানিকায় বলা হয়েছে : ‘জগতের সকল ধর্মের ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের মধ্যে হজরত মুহাম্মদই (সা.) বেশি সফলকাম হয়েছে।’

বাংলা ভাষা শুধু নয়, বিশ্বের সর্বকালের অন্যতম সেরা কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। দিল্লির জামে মসজিদ থেকে প্রকাশিত পত্রিকার জন্য পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে ১৯৩৬ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি এক বাণী পাঠান কবিগুরু।

তাতে তিনি লেখেন : ‘যিনি বিশ্বের মহত্তমদের মধ্যে অন্যতম, সেই পবিত্র পয়গম্বর হজরত মুহাম্মদের উদ্দেশে আমি আমার অন্তরের গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করি। মানুষের ইতিহাসে এক নতুন সম্ভাবনাময় জীবনশক্তির সঞ্চার করেছিলেন হজরত মুহাম্মদ পয়গম্বর। এনেছিলেন নিখাদ শুদ্ধ ধর্মাচরণের আদর্শ।’

গুরু নানক ছিলেন শিখ ধর্মের প্রবর্তক। কয়েক কোটি মানুষ এ ধর্মের অনুসারী। তিনি রসুল (সা.)-এর ওপর নাজিলকৃত কোরআনুল কারিম সম্পর্কে বলেছেন : বেদ পুরাণের যুগ শেষ হয়ে গেছে। এখন দুনিয়াকে পরিচালিত করার জন্য পবিত্র কোরআনই একমাত্র গ্রন্থ।

ভা’রতের স্বাধীনতার জনক মহাত্মা গান্ধী বলেছেন, ‘পাশ্চাত্য যখন অন্ধকারে নিমজ্জিত প্রাচ্যের আকাশে এখন উদিত হলো এক উজ্জ্বল নক্ষত্র এবং আর্ত পৃথিবীকে তা দিল আলো ও স্বস্তি। ইসলাম মিথ্যা ধর্ম নয়।

শ্রদ্ধার সঙ্গে হিন্দুরা তা অধ্যয়ন করুক তাহলে আমার মতোই তারা একে ভালোবাসবে।… অনুচরদের জীবনী থেকে আমি খোদ নবীর জীবনে উপনীত হলাম। যখন দ্বিতীয় খ- শেষ হলো, তখন দুঃখ পেলাম এই ভেবে যে, সেই মহৎ জীবন সম্পর্কে আর কিছু পড়ার থাকল না আমার।

আমার দৃঢ়বিশ্বাস জন্মাল যে, তরবারি নয়, নবীর কঠোর সারল্য, সম্পূর্ণ অহংবিলোপ, চুক্তির প্রতি সযত্ন সম্মান, বন্ধুজন ও অনুসারীদের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ এবং নির্ভীকতাই ইসলামের আসন অর্জন করেছেন।

স্বনামধন্য ব্যক্তিত্ব প্রফেসর ভেংকট রত্নম বলেছেন- “এটা ইসলামের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য যে, তা মানুষে মানুষে পার্থক্য সৃষ্টি করে না। লোহার তলোয়ার নয়, এর সাম্য ও ভ্রাতৃত্বই অনেক হিন্দুকে ইসলামের দিকে আকৃষ্ট করেছে। …আল্লাহর নবী মুহাম্মদ অন্য যে কোনো ব্যক্তির চেয়ে দুনিয়ার অধিকতর মঙ্গল করে গেছেন।”

দি লাইফ অব মুহাম্মদ গ্রন্থের প্রণেতা স্যার উইলিয়াম মুর লিখেছেন : “ধর্মের ব্যাপারে যেমন নীতিতত্ত্ব ও বিজ্ঞানের সকল ব্যাপারেও ঠিক তেমনি সমভাবে কোরআনই চূড়ান্ত এবং তার অধিকাংশ বাক্যই এত স্পষ্ট যে, প্রতিযোগী সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর পর্যন্ত তাতে কোনো প্রশ্নের অবকাশ থাকে না।

এর চেয়ে এত হীন কোনো জাতি খুঁজে পাওয়া ছিল কঠিন, যে পর্যন্ত না সহসা সংঘটিত হলো অলৌকিক ঘটনা। আবির্ভূত হলেন একজন মানুষ, মুহাম্মদ ব্যক্তিত্ব ও ঐশী নির্দেশ পরিচালনার দাবিতে যিনি প্রকৃতই সম্পন্ন করলেন অসম্ভবকে, যু’দ্ধরত গোত্রপুঞ্জের মিলনকে।”

যন- “অন্ধকারে তিনি ছিলেন আলো এবং তাঁর জীবনকে আমরা পাই এত মহৎ আর এত খাঁটি হিসেবে যে, আমরা অনুভব করতে পারি কেন তাঁকে নির্বাচিত করা হয়েছিল তাঁর চারদিককার মানুষের কাছে মহাপ্রভুর বাণী বহন করার জন্য।

রসুল (সা.) সম্পর্কে ‘ইসলাম দ্য মিস আন্ডারস্টুড রিলিজিয়ন’ গ্রন্থে জেমস মিসেনার লিখেছেন : “হজরত মুহাম্মদ (সা.) সেই প্রত্যাদিষ্ট মহান ব্যক্তিত্ব যিনি দীন ইসলাম কায়েম করেন।… আল্লাহর কালাম তাঁর নিকট নাজিল হতে থাকে জিবরিল ফেরেশতার মাধ্যমে।

তাঁর পূর্ববর্তী অধিকাংশ আম্বিয়ায়ে কেরামের মতো হজরত মুহাম্ম’দ (সা.)ও নিজের অ’পর্যাপ্ততার কথা ভেবে আল্লাহর কালাম পঠনে ইতস্তত করছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.