May 26, 2022

ভয়ঙ্কর ৮ দিন!

করোনা মহামারির সঙ্গে গত ১৬ মাসের বসবাস বাংলাদেশের। এই সময় সংক্রমণ এবং মৃত্যুর একাধিক উত্থান-পতন দেখেছে দেশবাসী। কিন্তু গত ৮ দিনের যে উত্থান, সেটাকে ‘মরণ কামড়’ বললেও কম বলা হবে। ২৭ জুন থেকে ৪ জুলাই-এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মহামারির ১৬ মাসের মধ্যে ৮ দিনে আগে এত মৃত্যু-সংক্রমণ দেখেনি দেশ।

ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে এই সময়ের মধ্যে প্রতিদিন শতাধিক মানুষ মৃত্যুবরণ করেছেন। সর্বশেষ গতকাল ৪ জুলাই তো ছাড়িয়ে গেছে দেড়শ’র কোটা। এই ৮ দিনে মোট প্রাণহানি হয়েছে ১ হাজার ১২টি এবং আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে ৬১ হাজার ৭৭৯ জনকে।

এত প্রাণহানি আর সংক্রমণের পেছনে রয়েছে শক্তিশালী ‘ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট’। ভারতে শুরু হওয়া করোনাভাইরাসের এই ধরনটিকে এখন পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়া সকল ভ্যারিয়েন্টের মধ্যে শক্তিশালী বলে আখ্যা দিয়েছেন বিষেশজ্ঞরা। বর্তমানে দেশে যত মানুষ করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন, তার ৮০ শতাংশই এই ভ্যারিয়েন্টের শিকার।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশে ৮ দিনের সর্বাত্মক লকডাউন চলছে। ১ জুলাই থেকে শুরু হয়েছে কড়া বিধিনিষেধ, শেষ হবে ৭ জুলাই। বাস্তবেও অন্যান্য লকডাউনগুলোর চেয়ে এটা অনেক কড়াকড়িভাবে পালন করা হচ্ছে। এরপর আরও ১ সপ্তাহের লকডাউন জারি করার চিন্তাভাবনা করছে সরকার। ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত জাতীয় কমিটি সরকারের প্রস্তাব উত্থাপন করেছে। সরকারও এ ব্যাপারে ইতিবাচক।

দেশের এমন পরিস্থিতির পেছনে মানুষের অসচেতনতা যেমন দায়ী, তেমনি টিকার সংকটকেও অনেকে সামনে আনছেন। ভারত টিকা রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ায় হঠাৎ করেই টিকাদান কর্মসূচি মুখ থুবড়ে পড়ে। কয়েক মাস এমন অবস্থা চলার পর অবশেষে আবার বিভিন্ন উৎস থেকে টিকা আসতে শুরু করেছে। এবার নতুন উদ্যমে টিকাদান কর্মসূচি চালু হলে আবারও লড়াই করা যাবে করোনার বিরুদ্ধে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.