এইমাত্র পাওয়া, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার তারিখ ঘোষণা

এইমাত্র পাওয়া, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার তারিখ ঘোষণা
এইমাত্র পাওয়া, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার তারিখ ঘোষণা

এইমাত্র পাওয়া, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার তারিখ ঘোষণাকরোনাভাইরাসের কারণে প্রায় দেড় বছর ধরে বন্ধ দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে একযোগে খুলছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

রোববার (৫ সেপ্টেম্বর) আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ ঘোষণা দেন।

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান শুরু হবে।
তিনি বলেন, দেশে করোনার সংক্রমণ দ্রুত কমে যাচ্ছে। জুলাই মাসের তুলনায় সংক্রমণ ৭০ শতাংশ কমে গেছে। শ্রেণিকক্ষে পাঠদানকালে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকসহ সবাইকে মাস্ক পরিধান করতে হবে।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মধ্য অক্টোবরের আগে খুলবে কিনা, তা পরবর্তীতে আরেকটি বৈঠকে সিদ্ধান্ত হবে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী। এদিন বিকাল ৩টার দিকে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির সভাপতিত্বে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠক শুরু হয়।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল।
এ ছাড়া মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খান, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক আলমগীর মুহম্মদ মনসুরুল আলম, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক এবিএম খুরশীদ আলমসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে প্রায় দেড় বছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর ক্ষেত্রে সরকারকে অন্তত ৭টি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। চ্যালেঞ্জগুলো হলো, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচ্ছন্নতা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা, শিক্ষার্থীদের টিকার (এক ডোজ) আওতায় আনা, বন্যাদুর্গত এলাকা, উচ্চসংক্রমিত জেলা, শিখন ঘাটতি দূর করা, ঝরে পড়া, স্থানান্তরিত ও স্কুলবিহীন শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে ফিরিয়ে আনা।
মূলত দেড় বছর বন্ধ থাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আসবাবপত্র অনেক কিছুই নষ্ট হয়ে গেছে। ঝোপঝাড়ে ছেয়ে গেছে শ্রেণিকক্ষ। বাথরুমসহ ওয়াশ ব্লক নষ্ট হওয়ার পথে। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
খোলার পর ধারাবাহিকভাবে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণও কঠিন। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতি কমবেশি ১০ শতাংশ। ১০-১৫ শতাংশ শিক্ষক-কর্মচারী এবং ১৮ বছরের বেশি বয়সী বেশির ভাগ শিক্ষার্থী এখনও টিকা পায়নি। এদিকে দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের ১৩ জেলায় চলছে বন্যা। বেশকিছু জেলায় সংক্রমণের হার অনেক বেশি।
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে জ্ঞানগত ঘাটতি। অনেক শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে। তাদের মধ্যে কারও বিয়ে হয়ে গেছে, আবার কেউ অর্থ উপার্জনে কাজে জড়িয়ে গেছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু করা খুবই কঠিন। তবুও কাজটি করতে হবে এর সঙ্গে জড়িতদের।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এখন শিক্ষা কার্যক্রম চালুর ক্ষেত্রে প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে করোনা সংক্রমণের নিম্নগতি ধরে রাখা। স্কুলের গেটেই দৈনিক প্রত্যেকের তাপমাত্রা মাপার ব্যবস্থা করতে হবে। যাদের মাস্ক পরানোর নিয়ম করা হবে তাদের সেটা নিশ্চিত করতে হবে। আগের মতো স্কুল চালানো যাবে না।
একটি শ্রেণির শিক্ষার্থীদের একদিন স্কুলে আনা ও তাদের তিন ভাগে বসানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। বাথরুমসহ গোটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিষ্কারের পর প্রস্তুত করা আরেকটি চ্যালেঞ্জ। এটা নিশ্চিতে মাঠ প্রশাসনকে কাজ করতে হবে। এক্ষেত্রে অভিভাবকদের তদারকির দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ৮ মার্চ দেশে করোনা সংক্রমণ দেখা দেয়। এরপর ১৭ মার্চ থেকে সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছুটি ঘোষণা করা হয়। এ পর্যন্ত গত ১৭ মাসে দফায় দফায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চলমান ছুটি বাড়ানো হয়। করোনা সংক্রমণ অব্যাহত থাকায় সবশেষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চলমান সাধারণ ছুটি ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বাড়ানো হয়।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*